ভারত এক গভীর ও জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সম্মুখীন, যেখানে চীন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ একটি উদ্বেগজনক কৌশলগত জোট গঠন করেছে, যা ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডোর, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে চীনের বন্দর ও বিমানঘাঁটির মতো পরিকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ ভারতের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। উপরন্তু, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে চীনের দিকে আরও ঝুঁকিয়ে দিতে পারে, যা আঞ্চলিক ভারসাম্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। পাকিস্তানও তার কৌশল পরিবর্তন করে ছদ্মযুদ্ধ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ব্যবহার এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে পরোক্ষ সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে, এবং একইসাথে ধর্মীয় উস্কানি ও গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, বিশেষত মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, বহিরাগত শক্তিগুলির দ্বারা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করছে। বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির বৃহত্তর কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলি একটি সংকীর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা কার্যকর প্রতিক্রিয়া গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই বহুমুখী কৌশলগত আক্রমণ এবং ক্রমবর্ধমান সামরিক ও গোয়েন্দা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের অবিলম্বে কৌশলগত পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র ও উপগ্রহ নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক, কারণ প্রতিবেশী দেশগুলিতে চীনের রাডার স্টেশন ও সামরিক প্রকল্প স্থাপন এই অঞ্চলের অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং একটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।